Showing posts with label শিক্ষা. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষা. Show all posts

Tuesday, January 13, 2009

শিক্ষাচেতনায় বাস্তবতা

সুশান্ত বর্মন

শিক্ষা কি? শিক্ষার উদ্দেশ্য কি? শিক্ষা কেন কিংবা শিক্ষার প্রভাব বলয় কতদূর এবম্বিধ বিবিধ প্রশ্নের সামনে যখন দাঁড়াই তখন বিব্রত হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। সংজ্ঞার ভারে প্রশ্নাবলীকে ব্যাখ্যা করা সহজ হলেও সামাজিক প্রেক্ষিতে উত্তরদান বড়ই জটিল।

শিক্ষা বিষয়ে সক্রেটিসের মন্তব্য “শিক্ষার মাধ্যমে সত্যের মুক্তি এবং মিথ্যার বিলুপ্তি ঘটে।
ফ্রেডরিক ফ্রয়েবেল এর মতে “শিশু সব গুণ নিয়ে জন্মায়। শিক্ষার লক্ষ্য হবে এইসব গুণের বা সম্ভাবনার উন্মেষণ।”
হার্বার্ট স্পেনসার মনে করেন “জীবনপরিবেশের সঙ্গে সার্থকভাবে অভিযোজনের মধ্য দিয়ে জীবনসংগ্রামে জয়ী হওয়ার কৌশলই হল শিক্ষা।”
কার্ল মার্কস এর মতে “শিক্ষার অর্থ কোন কিছু মেনে নেওয়া বা গ্রহণ করা নয়। শিক্ষার অর্থ হল সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন “তাকেই বলি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, যা কেবল তথ্য পরিবেশন করে না, যা বিশ্বসত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে।”
ফ্রান্সিস বেকন বলেন “Studies serve for delight, for ornament, and for ability.”
জাঁ জ্যাক রুশো শিক্ষা সম্পর্কে বলেছেন “Exercise the body, the organs, the senses and powers, but keep the soul lying follow as long as you can.”
স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষা সম্পর্কে বলেছেন “Education is the manifestation of perfection already in man.”
মাদাম মারিয়া মন্তেসরীর মতে “Education is the active help given to the normal expansion of the life of the child.”
জন ডিউই মনে করেন “Education is development of all those capacities in the individual which will enable him to control his environmental and fulfil his responsibilities.”

কিন্তু আমাদের সমাজের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। জ্ঞানার্জনের যে মূল্য তা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এসেছে। নিমগ্ন হয়ে সত্য খোঁজার চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু সাজেশন অনুসরণ করা অনেক সোজা- এই সরল সমীকরণ এখন সবাই জেনে গেছে। তাই পণ্ডিতদের সংজ্ঞায় যাই থাকুক না কেন শিক্ষার উদ্দেশ্য একালে খুবই সরল, তীব্র ও তীক্ষ্ণ। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দ্রুত পরিবর্তিত সমাজ কাঠামোয় মানুষ এখন হিসেব করে চলতে শিখে গেছে। প্রযুক্তির প্রাগ্রসরতা ও দর্শনবোধের শূন্যতা তাদের এই চেতনায় মদদ দিয়েছে। জীবন এখন অনেকটা সিলেবাসকেন্দ্রিক। মুক্ত, অবাধ, উদ্দাম জীবনের স্বপ্ন এখন আর কেউ দেখেনা। আমাদের শিক্ষানীতিহীন শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্যও কতকটা তাই।

ইউরোপ-আমেরিকার সমস্ত সাফল্যের মূলে রয়েছে প্রাগমাটিক দর্শনবোধ দ্বারা পরিচালিত সেদেশের শিক্ষাব্যবস্থা। ফ্রয়েবলের কিন্ডারগার্টেন ও মন্তেসরীর শিশু মনোবিজ্ঞানসম্মত শিক্ষণপদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ পাশ্চাত্যের শিশুদের মনে শিক্ষার প্রতি যে আগ্রহ সৃষ্টি করে তাকে নিপুণ পরিচর্যায় মহীরূহ করে তোলে প্রয়োগবাদী দর্শন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সাফল্যে তাদের কৃতিত্ব দেখে আমরাও উদ্দীপ্ত হয়েছিলাম। তাই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাও সাজানো হয়েছিল প্রয়োগবাদী দর্শনের কথা মাথায় রেখে। স্বাধীনতার এত বছর পরে সেই উৎসাহ কোথায় মিলিয়ে গেল তা খোঁজা বড়ই দুষ্কর। আমাদের শিক্ষানীতিহীন শিক্ষাব্যবস্থা যে সামাজিক গহ্বরের সৃষ্টি করেছে তা থেকে উত্তরণ সুদূর পরাহত। অনেকে রাজনীতিকে দোষ দিয়ে একটি সরল সমাধানের পথে যেতে চান। কিন্তু রাজনীতিকদের ব্যর্থতা আমরা গলাধকরণ করবো কেন সে প্রশ্ন কেউ করেনা।

অবিমৃষ্যকারিতা, অর্থগৃধ্নতা, স্বার্থপরতা, ক্ষমতামদমত্ততার এক নিকষ কালো ফাঁদে নিজেরাই নিজেকে বন্দী করেছি। সামাজিক দায়বদ্ধতার আঙ্গিক সন্ধান করতে চাইনি। সময়ের বাস্তবতাকে মাথা পেতে মেনে নিয়ে সান্তনা খুঁজেছি। এই আত্মসমর্পণ তথা আত্মহত্যাকেও কাঙ্ক্ষিত বলে স্বীকার করেছি। যার প্রভাব নতুন সহস্রাব্দে প্রকটরূপ ধারণ করেছে। অন্তসারশূন্য মানবিক সম্পর্কের সূত্র ধরে আমরা বর্তমানকে রাঙাতে চাই। ভবিষ্যতের নৈঃসঙ্গপীড়িত দু:স্বপ্ন আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই ব্যক্তিক সমৃদ্ধি ও উদ্বৃত্ত স্বজনপ্রীতিই আমাদের সমস্ত কার্যকারণের পাথেয়।

কিন্তু এমন জটিল অবস্থা মোটেও কাঙ্ক্ষিত ছিলনা। যে স্বপ্ন ও উচ্চাশা বুকে নিয়ে ১৯৭১ সালে দেশটা স্বাধীন করা হয়েছিল তার সবই ম্রিয়মান হয়ে গেছে। সামাজিক উন্নতি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, রাজনৈতিক আত্মসম্মান, সাংস্কৃতিক বিকাশ এর আকাঙ্ক্ষা সবই বিফলে গেছে। আমরা আমাদের স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মের চেতনায় কোন অমৃতবৃক্ষের বীজ বপন করতে পারিনি। দায়সারা কর্মযজ্ঞের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছি নিজের মনের গোপন গভীর সত্যটিকে। কৃষিবিপ্লব ও অর্থনৈতিক উন্নতি দাঁড়িয়ে থেকেছে বক্তৃতাবাজির বারান্দায়। সামাজিক সংহতি পরিণত হয়েছে “বজ্র আটুনি ফস্কা গোরোয়”। আর এর সবকিছুর মূলে রয়েছে আমাদের ব্যর্থ শিক্ষাব্যবস্থা।

শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিরক্ষর, অজ্ঞ অভিভাবকের যে বোধ তাকে স্বীকার করতে আমাদের কোন দ্বিধা নেই। তারা নিজেদের আর্থসামাজিক অবস্থা থেকেই শিক্ষাকে অর্থ উপার্জনের বাহন হিসেবে মনে করে। গ্রন্থ তাদের কাছে বন্ধুত্বের বার্তা নয়, শ্রমিকের ব্যবহারোপযোগীতা নিয়ে উপস্থিত হয়। তারা গ্রন্থকে ব্যবহার করেই সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে চায়। জ্ঞানের মূল্য পেটের ক্ষুধার কাছে সেখানে ম্লান হয়ে যায়। অস্বচ্ছল দ্বারে স্বচ্ছলতার আস্থা বহন করে শিক্ষা। এর বিপরীতে শিক্ষিতজনের আচরণও ততোটা ভিন্ন নয়। সাধারণভাবে মনে করা হয়ে থাকে শিক্ষিত মানুষ মাত্রই সচেতন। কিন্তু আমাদের সমাজ প্রমাণ করেছে শিক্ষিতজনের কপালে চিত্রিত এই অভীধাটি কতই না ভ্রান্ত।

বর্তমান বাস্তবতায় একটি শিক্ষিত দম্পতি সন্তান জন্ম হওয়ার আগেই তার জীবন ছক এঁকে ফেলেন। কোন কিন্ডারগার্টেনে সন্তানের শিক্ষাজীবন শুরু হবে, কোন বিষয়ে পড়লে তার উচ্চ আয় নিশ্চিত হবে ইত্যাদি। এভাবে নির্দিষ্ট ছকে সন্তানের জীবনরেখা আঁকা হয়ে যায়। শিক্ষার উদ্দেশ্য-লক্ষ্য সবই চাপা পড়ে যায় উচ্চাভিলাষের নীচে। সন্তানও অভিভাবকের কাছ থেকে শিখে নিয়ে শ্রেণী সচেতন হয়ে পরে। তার জীবন চলার পথ যে দেশের নিম্নবর্গীয় জনজীবনের থেকে আলাদা সে বিষয়ে সজাগ হয়ে যায়। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তার উত্তরণ ঘটে ধাপে ধাপে। প্রতিযোগীতার তীব্র ট্রাকে অবস্থান ধরে রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা তাকে অন্যকিছু ভাববার সময় দেয়না। নির্দিষ্ট লক্ষ্যাভিমুখী ছুটে চলা তার প্রতিবেশ উপলব্ধি করার সময় ও সুযোগ কোনটাই দেয়না। ফলে বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও তার জানা থাকেনা সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান তথা সামাজিক বিজ্ঞানের কোন বিষয়। ফলে তার মধ্যে মানবিক ও সামাজিক বোধের ততোটা বিকাশ ঘটেনা। বিপরীতে মানবিক বিদ্যার ছাত্ররাও অজ্ঞান থাকে বিজ্ঞানের সহজ সরল সূত্রগুলি সম্পর্কে। বিজ্ঞানের যে ছাত্রটি তার বিষয়ের জটিল সমীকরণগুলি অনায়াসে পরীক্ষার খাতায় লিখছে সে সামাজিক নিয়মেই বিষয়টি বোঝার জন্য, জানার জন্য বা উপলব্ধি করার জন্য চেষ্টা করেনা। পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর পাওয়াটাই মুখ্য। বিষয়কে আত্মস্থ করা নয়। ফলে সামাজিক বিষয় পাঠহীনতা ও নিজের বিষয়ের প্রতি উপলব্ধিবোধের অভাব তাকে যৌক্তিকভাবে চিন্তা করতে শেখায়না। মানবিক বিদ্যার ছাত্রটির অবস্থা তথৈবচ। সে নিজেও অবস্থার দাস। পাঠ্য বিষয়ের প্রতি সেও উদাসীন। জ্ঞানতৃষ্ণা তার মধ্যেও নেই। পরীক্ষায় পাশের জন্য; সাজেশনভিত্তিক যেটুকু পড়া প্রয়োজন তার বাইরের কোন বই পড়ার জন্য সে তেমন উৎসাহবোধ করেনা। উভয় বিষয়ের ছাত্রদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো বিনোদনের জন্য দু’একটা গল্প উপন্যাস পড়ে। কিন্তু জানার জন্য, চিন্তা করার জন্য যে পাঠাভ্যাস তা তার গড়ে ওঠেনা। মৌলিক কোন বিষয়কে আত্মস্থ করার উদ্যম সে অনুভব করেনা। সাজেশন অনুযায়ী সংগৃহীত নোটগুলোকেও বোঝার আগ্রহ তার নেই। কোনমতে মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে গিয়ে উগড়ে দিতে পারলেই সে তৃপ্ত। পণ্য সংস্কৃতির মায়াজালে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে গিয়ে সে কি হারিয়ে ফেলে তার তার অজানা থেকে যায়। এক দূরতিক্রমণ্য মোহাবিষ্ট জীবন সে নিরন্তর যাপন করে যায়। চরাচরের সৌন্দর্য তাকে হাতছানি দেয়না। নিরন্ন ছিন্নমূল মানুষের আর্তিও তাকে উদ্বিগ্ন করে না। আত্মরতির গ্লানি উপেক্ষা করে যাপিত যে জীবন তাই তার কাছে কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্চিত। নিষ্ঠা, অধ্যাবসায়, জিজ্ঞাসা, একাগ্রতা ইত্যাদি শব্দগুলো তার কাছে অর্থহীন ধ্বনি মাত্র।

জাতীর শারীরিক আয়তন সংখ্যায় বাড়ছে কিন্তু মেধাগত আয়তন সেই তুলনায় বরং অনেক ক্ষীণ। এর ফলাফল বিস্ময়কর কিংবা হতাশাবাচক হলেও অভাবিত নয়। বরং সূত্রানুযায়ী এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক, ভবিতব্য। বিজ্ঞানের ছাত্ররা শরীরে তাবিজ-কবজ-মাদুলী অথবা তার অলৌকিকে আত্মসমর্পণ কিংবা মানবিক বিদ্যার ছাত্রটির চিত্রকলা, ভাস্কর্য, ধ্রুপদী সঙ্গীত অথবা কবিতা সম্পর্কে অজ্ঞতার চিত্র এখন আর মোটেও দুর্লভ নয়। এই দৃশ্য দেখে এখন আর কেউ চমৎকৃত হয়না যখন দুই ধারার শিক্ষিতজনেরা একত্রে বসে আধিভৌতিক কোন দার্শনিক(?) মতের সপক্ষে সেমিনার করছে। সেক্সপীয়র বলেছেন “এই পৃথিবীটা একটি নাট্যমঞ্চ মাত্র।” আমাদের চারপাশের নাট্যমঞ্চে যে নাট্যাবলী নিয়মিত মঞ্চায়ন হচ্ছে সেখানে পণ্ডিতেরা বসে আলোচনার নামে তর্ক করছেন, জাবর কাটছেন, একে অপরের পিঠ চাপড়াচ্ছেন কিংবা অন্য কারও নিন্দা করছেন। কোন সামাজিক তত্ত্ব ও তার সমস্যাবলীর সমাধানের চেষ্টা তাঁদের নেই। গবেষণা যা হচ্ছে তা এতই উচ্চমার্গীয় যে সাধারণের তাতে কোন অংশগ্রহণ বা প্রবেশাধিকার নেই।

ল্যাবরেটরিতে বসে বিজ্ঞানীরা যন্ত্রাংশ পরিষ্কার করছেন আর পাশ্চাত্যের কোন আবিষ্কারের গুণকীর্তন করছেন; মাঝে মাঝে কেরোসিন কুপি বা বিদেশী শৈবাল খাদ্যপোযোগ্যকরণ জাতীয় অভূতপূর্ব বৈজ্ঞানিক গবেষণা জাতির সামনে উপস্থাপন করছেন। বিজ্ঞানচেতনা বিকাশের চাইতে বিনাশে তাদের মনোযোগ বেশি। রেডিও, টিভি, ঔষধ, কম্পিউটার, নতুন শক্তি উৎপাদক যন্ত্র বা ইঞ্জিন এ ধরণের কোন মৌলিক আবিষ্কার করার মত ভাবনাগত উৎকর্ষ এদের নেই। জনজীবনের কাজে লাগে বা মানুষের দুর্ভোগ দূর হয় এমন কোন মৌলিক আবিষ্কারের কৃতিত্ব স্বাধীনতাত্তোর কোন বাঙালির নেই। যা কিছু নতুন চিন্তা তা করা ও তার প্রায়োগিক উন্নয়ন সবকিছুর দায়িত্ব যেন শুধুমাত্র বিদেশীদের। আমাদের বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের মতো বিদেশী প্রযুক্তির ভোক্তামাত্র। নতুন প্রশ্ন বা পণ্যের উদ্ভাবন অনুসন্ধান কিংবা উন্নয়ন কোন কিছুর পিছনেই আমাদের বিজ্ঞানীরা তাঁদের মূল্যবান মেধা ও সময় ব্যয় করতে ইচ্ছুক নন।

দর্শনচর্চাতেও আমরা পিছিয়ে আছি। মৌলিক চিন্তাবিদ বলতে যা বোঝায় তেমন কোন চিন্তাশীল ধীমান স্বদেশে বিরল। দর্শনচর্চা দূরে থাক দর্শনবোদ্ধার সংখ্যাও অপ্রতুল। জ্ঞানের বিকাশ, চিন্তার মুক্তি ইত্যাদি শ্লোগানগুলো শ্লোগানরূপেই গৃহীত; প্রাত্যাহিক জীবনাচারের স্বাভাবিক বহির্প্রকাশরূপে নয়। কোন নতুন দর্শনতত্ত্বের উন্নয়ন, আলোচনা, বিকাশ, পরিশীলন কোন কিছুই আমাদের দ্বারা সম্ভব নয়। বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী দর্শনতত্ত্বের যথাযোগ্য বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন তো দূরের কথা। আসলে বাঙালির নিজস্ব দর্শন সত্যি কোন আছে কিনা তা অন্বেষণ করা কঠিন। অনেকে বাঙালির বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গের মধ্যে সীমানা টানতে চান। বহিরঙ্গের চিহ্ন বিব্রতকর হলেও বেশিরভাগ মানুষের অন্তরঙ্গে কোন মহান দর্শনের ফল্গুধারা বইছে তা এখন নিরূপন হয়নি। সাধারণ মানুষের মতো আমাদের দার্শনিক বলে পরিচিতরাও দার্শনিক সমস্যার অতলে ডুব দিয়ে মুক্তাটিকে খুঁজে বের করার মতো সদিচ্ছা পোষণ করেননা।

ললিতকলার ক্ষেত্রেও বিরাজ করছে বিশাল এক শূন্যতা। চর্চাকারীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেলেও মনন এবং বুদ্ধিদীপ্তির মিশ্রণ বড়ই দুর্লভ। আন্তর্জাতিক হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে এমন সাহিত্যিক, চারু, কারু, নৃত্য, সঙ্গীত শিল্পীর সংখ্যা নিরাশাব্যঞ্জক। কালের নিরীখে উত্তীর্ণদের জ্যোতি ক্ষীণ হবার পথে। দু’একটি স্ফুলিঙ্গ চোখে পড়লেও তার উজ্জ্বলতা বড়ই সাময়িক। ললিতকলার কোন নতুন ধারা আমরা বিদেশ দূরে থাক জাতির পাতে এখনও উপস্থাপন করতে পারিনি। কোন নতুন চিন্তা-চেতনা, ভাবধারা, দিগন্ত আমরা উন্মোচন করতে পারিনি। জাতির বুকে কোন নতুন স্পন্দন, উদ্দীপনা সৃষ্টিতে আমাদের সাংস্কৃতিক দিকপালেরা প্রায়শ সফল হয়েছেন এমন মন্তব্য করা অনুচিত হবে।

আসলে আমরা যে তিমিরে ছিলাম, সেই তিমিরেই থেকে গেছি। সামগ্রিকভাবে আমাদের শিক্ষার মান এত নীচে নেমে গেছে যে আমরা বুঝতেই পারছিনা কোথায় চলেছি। কুয়োর ব্যাঙের মতো আমরা বারবার কুয়োর পরিমাণ ও আয়তন দিয়ে সাগরকে মাপার চেষ্টা করছি। কিন্তু দুটা নয়, দশটা নয়, লক্ষ কুয়ো দিয়েও যে সাগরকে মাপা যায়না এটাই চিরন্তন সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন -“সত্য যে কঠিন সেই কঠিনেরে ভালবাসিলাম।” এই ঋজু এবং প্রখর সত্যটিকে স্বীকার করার মত সৎ সাহস বা বুকের পাটা আজ আমাদের বেশিরভাগ মানুষের নেই।

রাজনীতিবিদ, পেশাজীবি, ব্যাবসায়ী এবং প্রান্তীয় মেহনতী মানুষের কথা বাহুল্যবোধে বাদ দেয়াই ভালো। তাঁদের কাছ থেকে আমাদের আশা করার কিছু নেই। তাঁরা অধিকাংশই সমাজ ব্যবস্থার দাস মাত্র। সমাজ যেমন চাইবে তাঁরা তেমন আচরণ করবে। তাঁদের দ্বারা মৌলিক, সৃষ্টিশীল ও গণমুখী কোন কাজ বিশ্বের ইতিহাসে খুবই কম। আমাদের যাবতীয় ভাবনা সচেতন বলে পরিচিত, আধুনিক বলে গর্বিত, শিক্ষিত বলে অভিমানতাড়িত মধ্যবিত্ত শ্রেণীটিকে নিয়ে। বিশ্বের বেশিরভাগ সভ্য দেশে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন সংকটে মধ্যবিত্ত শ্রেণী নেতৃত্ব দিয়েছে। আমাদের দেশের অবস্থাও ভিন্নরূপ নয়। আমাদের মধ্যবিত্তদের যতটা আগ্রহ রাজনীতিতে, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অন্যান্য বিষয়ে ততোটা নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দুর্যোগে মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে উঠে আসা দেশপ্রেমিকরা সংকট উত্তরণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন একথা সত্য। তবে এই একটিমাত্র ক্ষেত্রেই তাঁরা জনসমুদ্রে সমানভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই একটিমাত্র ক্ষেত্রেই তাঁরা বিপ্লবী বিদ্রোহীর ভূমিকা অনুভব করেছেন। আর সব ক্ষেত্রেই থেকে গেছেন নিষ্ক্রিয়, অবসন্ন, নিষপ্রভ। যেভাবে চলছে সেভাবে চলাকেই সার্থকতা ভেবেছেন। পরিবর্জন, পরিবর্ধন, পরিমার্জনকে ভেবেছেন বিকাশের অন্তরায় হিসেবে। এই সব ক্ষেত্রে বিপ্লবী-বিদ্রোহীর বিপরীতে অনুভব করেছেন দাসত্ব এবং আত্মসমর্পণের আনন্দ। তাঁরা ভুলে যান প্রাকৃতিক ও সামাজিক চিরন্তন সত্যটিকে। উইলিয়াম জেমস এর ভাষায় “নতুনত্ব প্রথমত ননসেন্স তারপর তাকে মানা হয় অবধারিত বলে, তারপর প্রাক্তন উপদেশকের উদ্ভাবনা হিসেবে প্রযুক্ত হয়।” কিন্তু আমরা তা বিশ্বাস করিনা, তাই মানিনা।

নতুন যুগের শিক্ষার্থীরা কাকে আদর্শ মানবে? বিপদে-সন্তাপে কার কাছে আশ্রয় পাবে- এমন ভাবনাগত দুর্বিপাকে অনবরত ঘুরপাক খেতে থাকে। সবকিছু দেখে-শুনে-বুঝে তারাও শিখে ফেলে প্রচলিত সামাজিক সূত্রটিকে। মরমী কবির বলা ‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়’ কথাটি আজ ব্যর্থ হয়ে গেছে। আমরা স্বাধীনতাহীনতায় বাঁচতে চাই। বরং স্বাধীনতা আমাদের ভীত করে তোলে। নিজের লোভী মুখচ্ছবিটিকে চিনে ফেলে আমরা নিজেদেরকেই শত্রু ভাবি। এর চেয়ে পরাধীনতার সুবিধা অনেক। ত্যাগ-তিতিক্ষার ক্লেশ সহ্য করতে হয়না। ইডিপাসকে অন্ধ জ্ঞানী সত্য জানতে মানা করেছিলেন। কিন্তু ইডিপাস মানেনি। সত্য জানার তীব্র বেদনা তাকে সারাজীবন বহন করতে হয়েছে। ইডিপাসের দুর্ভাগ্য থেকে আমরা শিক্ষা নিযেছি। তাই আমরা সত্য জানতে ভয় পাই। আমাদের শিক্ষিতজনেরা এমনই শিক্ষিত যে তাঁরা পড়েনও না লেখেনও না। ‘পড়ালেখা’ শব্দবন্ধটি আমরা সবাই জানি কিন্তু মানিনা। কোন মননশীল গ্রন্থের কথা বাদ দিয়ে সাধারণ জনপ্রিয় ধারার উপন্যাসের বই বিশ ত্রিশ হাজারের বেশি ছাপানো হয়না। জনপ্রিয় এক লেখকের কোন একটি বই নাকি সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছিল। এই একটিমাত্র উদাহরণ ছাড়া বেশিরভাগ গ্রন্থ পাঁচ-দশ হাজারের বেশি ছাপানো হয়না। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জীবনব্যাপী বই পড়েছেন কিন্তু একটাও বই লেখেননি। তাঁর মতে আমরা এখনও পঞ্চদশ শতকে বাস করছি। এমন পরিবেশে বই লেখা বৃথা। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অসংখ্য বোর্ড স্ট্যান্ড এবং এ প্লাস সৃষ্টি করতে পারলেও পাঠক সৃষ্টি করেছে অনেক কম। হাতে গোনা যায় এমন সংখ্যায়। আমাদের শিক্ষার হার শতকরা চৌষট্টি ভাগ। কিন্তু সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকাটিও দুই লক্ষের বেশি ছাপানো হয়না। সব সহ প্রতিদিন বিশ লক্ষের বেশি কপি পত্রিকা ছাপানো হয়না। পত্রিকাগুলো তথ্য দেয়না বলে উপরে বর্ণিত অংকগুলো তথ্যনির্ভর নয়। কিন্তু এর আংশিক যদি সত্যি হয় তাহলেও আশা করার কিছু নেই। ১৪-১৫ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র বিশ লক্ষ জন পত্রিকা পড়েন কিংবা একটি মননশীল গ্রন্থ মাত্র দুই হাজার জন পড়েন এটা কোন আনন্দদায়ক চিত্র নয়।

শিক্ষার মনস্তত্ব অনুযায়ী শিশুরা বয়স্কদের দেখে অনেককিছু শেখে। তারা প্রতিমুহূর্তে কিছু না কিছু শেখে। অভিভাবক, নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী, স্কুল শিক্ষকসহ বিভিন্ন বয়স্ক ব্যক্তির আচরণ গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করে। বয়স্কদের মতো আচরণ করে নিজেকেও বড় ভাবতে চায়। এটা শিখনপদ্ধতির একটা অংশও বটে। আমাদের শিশুরা আমাদেরকে দেখে-বুঝে অনেককিছুই শিখে ফেলেছে। তাদেরকে তাই এককভাবে দোষারোপ করাটা অনুচিত হবে।

এখন সময় এসেছে শুদ্ধ, শোভন, মানবিক জীবনযাপনের যে ঐশ্বর্য তা অনুভব করার। বিদেশী দর্শন, বিদেশী আদর্শ, বিদেশী তত্ত্ব, বিদেশী প্রযুক্তি তথা সকল বিদেশী পণ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সাম্রাজ্যবাদের সমগ্র স্বরূপকে চিনতে হবে। শুধু রাজনীতি নয় দর্শন, অর্থনীতি, সংস্কৃতি বিভিন্নরূপে সাম্রাজ্যবাদ নিজের শ্বদন্ত প্রকট করে। শিক্ষার্থীদেরকে এর স্বরূপ সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন করে তুলতে হবে। তাদেরকে নিজ সংস্কৃতির রত্নভাণ্ডারের খোঁজ জানাতে হবে।

দেশের মেধাবীরা বিদেশে গিয়ে সাফল্য দেখান কিন্তু স্বদেশে নয়। এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। স্বদেশে তাদের নিষ্ক্রিয়তা, ম্রিয়মানতা, তথা মেধাহীনতার উৎসমূল চিহ্নিত করতে হবে। বিজ্ঞানচেতনাহীন, সামাজিক দায়হীন কোন মানুষ যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত নন। তার শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিফলে গেছে। উপনিষদে আছে “সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে”। আমাদের বিদ্যা আমাদেরকে অজ্ঞানতা, কুসংস্কারপ্রবণতা, পশ্চাৎপদতা, আধিভৌতিকতা, সাংস্কৃতিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে পারেনি। আমরা এখনও মধ্যযুগে বাস করছি। মধ্যযুগীয় চিন্তা-চেতনা লালন-পালন করছি এবং আত্মগৌরবরূপ আত্মপ্রসাদে তৃপ্ত হচ্ছি। এক মহাকালিক নিদ্রায় আসমাজ ডুবে আছি। এটা যে নতুন সহস্রাব্দ এবং এই সহস্রাব্দের দিগন্ত যে ভিন্ন হবে এটা আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। নতুন সহস্রাব্দের কোলাহল আমাদেরকে জাগ্রত করেনি। অতীতের স্বপ্নে বিভোর থেকে সমকালের সমস্যাকে উপেক্ষা করছি।

আমাদের এখন বিজ্ঞানমনস্কতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিকাশ ঘটাতে হবে। নিজের জীবনাচারণের মৌলিকত্ব তুলে ধরতে হবে নতুন প্রজন্মের সামনে। উদার ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি মর্মের গভীরে লালন করতে হবে। মানবিক বোধ দিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে প্রজন্মান্তরের কলরবকে। বিবেকবোধের শক্তিতে আত্মপ্রত্যয়ে উজ্জীবিত হতে হবে। মনের সৌন্দর্য দিয়ে দূর করতে হবে জগৎসংসারের শরীরে লেগে থাকা সমস্ত কালিমাকে। নিজেদের জাতিগত স্বাতন্ত্র্যকে অনুভব করা আসলে এই মুহূর্তে খুবই প্রয়োজন। হাজার বছরের এক ঐতিহ্যিক পথ পরিক্রমার শেষে বাঙালি জাতি এসে দাঁড়িয়েছে নতুন সহস্রাব্দের দরজায়। চর্যাপদের বহু আগেও এই জাতির অস্তিত্ব ছিল। আচরণে, অভীজ্ঞায় তাদের যে বোধ তা ছিল অন্যদের চাইতে সম্পূর্ণ আলাদা। চর্যাপদের যুগে তাদের জীবনযাত্রায় একটি অন্তর্লীন ঢেউ একটি স্বাজাত্যের সুর তোলে। এরপর দীর্ঘ কাল পরিক্রমা শেষে বাঙালি একটি সার্বভৌম স্বদেশের মালিকানা পায় ১৯৭১ সালে এসে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই আমরা একটি স্বতন্ত্র ও সংহত পরিচিতির অধিকারী হই। হাজার বছরের অর্গল নিমেষেই খুলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ‘সুশিক্ষিত’, ‘স্বশিক্ষিত’ শব্দগুলি প্রত্যেকটিই আমাদের কাছে অধরা থেকে যাচ্ছে। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বুকের গভীরে ধারণ করার যে শক্তি তা আমরা বহন করতে পারিনি।

পাকিস্তানীদের নৃশংস তাণ্ডব ১৯৭১ এ আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। সাংস্কৃতিক কারণে তারা আমাদের সবাইকে খুন করতে চেয়েছিল। তাদের ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশের সবকটা বাঙালিকে হত্যা করে ভূখণ্ডটিকে দখল করার। সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যে আমরা তাদের চাইতে স্বতন্ত্র এবং শ্রেষ্ট ছিলাম (এখনও আছি) বলে তারা আমাদেরকে ১৯৪৮ সাল থেকে সহ্য করতে পারতো না। আমাদের খেটে খাওয়া মানুষের শ্রমের ফসল দিয়ে কেনা অস্ত্র তাক করেছিল আমাদের বুকের দিকেই। আমরা আত্মসমর্পণ করিনি। প্রতিবাদ করেছি, প্রতিরোধ গড়েছি। নিজের স্বকীয়তাকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছি। মাথা উঁচু করে গর্বভরে চীৎকার করে বিশ্বসভায় জানিয়েছি আমাদের দেশের নাম ‘বাংলাদেশ’। সশস্ত্র যুদ্ধে হিংস্র পাকিস্তানীরা আমাদেরকে পরাজিত করতে পারেনি। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর কালে আমরা নিজেরাই নিজেদের কাছে হেরে গেছি। একাত্তর পরবর্তী প্রজন্মের সামনে কোন আদর্শগত দার্শনিক চেতনা তুলে ধরতে পারিনি। একাত্তর আমাদের সামনে দেশপ্রেমের যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছিল তা তাদেরকে উপলব্ধি করাতে ব্যর্থ হয়েছি। একটি সৃষ্টিশীল জাতি থেকে পরিণত হয়েছি ভোক্তা জাতিতে। আমাদের খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা পরিণত হয়েছে ভিক্ষার ঝুলিতে। আর আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এর জন্য কোন সতর্কবার্তা বহন করেনি। শিক্ষার্থীরা তথা তরুণ প্রজন্ম বিজ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সমাজ বিজ্ঞান প্রভৃতি সম্পর্কে অসচেতন থেকে যাচ্ছে।

মুক্তচিন্তা, জ্ঞানতৃষ্ণা, দেশপ্রেম, মানবিক ভালোবাসা, সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা প্রভৃতি শুভচেতনাগুলো প্রজন্মের মনন থেকে ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে; চলছে মূল্যবোধের ক্রান্তিকাল। বরং অজ্ঞতা, পশ্চাৎপদতা, মানসিক বিচ্ছিন্নতা, নিয়তিবাদ, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি অশুভ দানবের দম্ভ বাড়ছে। এক বিরাট মানবিক বিপর্যয়ের দিকে আমরা প্রতি পদে পদে এগিয়ে যাচ্ছি। এক বিরাট দুর্যোগ আমাদেরকে গ্রাস করার জন্য মুখব্যাদান করে বসে আছে। এখনই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে; শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
Read More ... »

Friday, June 13, 2008

Education & Pragmatic views: Dewey’s PHILOSOPHY OF EDUCATION.

Shibajee Dey

John Dewey (1859-1952) was an American philosopher, educator and social critic. Dewey is probably best known for his philosophy of education. This is not a special branch of his philosophy, however it is claimed that all philosophy can be conceived of as the philosophy of education.

The key concept in Dewey’s philosophy is experience. Dewey presented a comprehensive and synoptic image of man and the universe. The entire universe consists of a multifarious variety of natural transactions. Man is at once continuous with the rest of nature and exhibits distinctive patterns of behaviors that distinguish him from the rest of the nature. His experience is also pervaded with qualities that are not reducible to less complex natural transactions. Thus Dewey attempted to place man within the context of the whole of nature.

Dewey’s philosophy is both realistic and optimistic. In Dewey’s view, philosophy is dependent on, but should attempt to transcend, the specific culture from which it emerges. The function of philosophy is to effect a junction of the new and the old, to articulate the basic principles and values of a culture, and to reconstruct these into a more coherent and imaginative vision. Philosophy is therefore essentially critical and, as such, will always have work to do. For as the complex of tradition, values, accomplishments and aspirations that constitute a culture changes, so must philosophy change. Indeed, in pointing the way to new ideals and in showing how these may be effectively realized, philosophy is one of the means for changing a culture. Philosophy is continually faced with the challenge of understanding the meaning of evolving cultures and civilizations and of articulating new projected ideals.

Dewey is the inventor of instrumentalism. From Dewey’s perspective, there are no absolute first truths that are given or known with certainty. Furthermore, knowledge neither has nor requires such a foundation in order to be rational. Inquiry and its objective, knowledge, are rational because inquiry is a self-corrective process by which we gradually become clearer about the epistemological status of both our starting points and conclusions . We must continually submit our knowledge claims to the public test of a community of inquirers in order to clarify, refine and justify them.

Dewey’s thinking on education is based on his pragmatic view. It is essential to appreciate the dialectical context in which Dewey developed his educational ideals. He was critical to the excessively rigid and formal approach to education that dominated the practice of most American schools in the later part of the nineteenth century. He argued that such an approach was based upon a faulty psychology in which the child was thought of as a passive creature upon whom information and knowledge had to be imposed. But Dewey was equally critical of the “new education”, which was based on a sentimental idealization of the child. This child-oriented approach advocated that the child himself should pick and choose what he wanted to study. This approach also was based on a mistaken psychology, which neglected the immaturity of the child’s experience. Education is, or ought to be, a continuous reconstruction of experience in which there is a development of immature experience toward experience enriched with the skills and habits of intelligence. The slogan “Learn by doing” was not intended as a credo for anti-intellectualism but, on the contrary was meant to call attention to the fact that the child is naturally an active, curious and exploring creature. A properly designed education must be sensitive to this active dimension of life and must guide the child, so that through his participation in different types of experience his creativity and autonomy will be cultivated rather than stifled.

Like Aristotle, Dewey believed that the function of education is to encourage those habits and dispositions that constitute intelligence. Dewey placed great stress on creating the proper type of environmental conditions for eliciting and nurturing these habits. His conception of the educational process is therefore closely tied to the prominent role that he assigned to habit in human life. Education as the continuous reconstruction and growth of experience also develops the moral character of the child.

Dewey also thought of the school, as an ideal miniature society is the chief means for social reform. In the controlled social environment of the school it is possible to encourage the development of creative individuals who will be able to work effectively to eliminate existing evils and institute reasonable goods. The school therefore, is the medium for developing the set of habits required for systematic and open inquiry and for reconstructing experience that is endowed with greater harmony and aesthetic quality.

Dewey perceived actually the threat posed by unplanned technological, economic and political development to the future of democracy. The natural direction of these forces is to increase human alienation and to undermine the shared experience that is so vital for the democratic community. For this reason, Dewey placed so much importance on the function of the school in the democratic community. The school is the most important medium for strengthening and developing a genuine democratic community, and the task of democracy is forever the creation of a freer and more human experience in which all share and participate.

Writer: Assistant Professor, Department of Philosophy, Abdulpur Govt. College, Natore.
Read More ... »

Friday, May 30, 2008

রাসেলের শিক্ষা ভাবনা

রাসেলের শিক্ষা ভাবনা
শিবাজী দে

এ যুগের অন্যতম চিন্তাবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের (১৮৭২-১৯৭০) প্রতিভা ও সৃষ্টির বহুমুখিতা বিস্ময়কর। অনেকের মতে, রাসেলের গাণিতিক যুক্তিবিদ্যা ও দর্শন সম্পর্কিত অবদান চিন্তার ইতিহাসে স্থায়ী পরিবর্তন সূচনা করে। গণিত শাস্ত্র এবং দর্শনে তাঁর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম, নৈতিকতা, শিক্ষা এসব নিয়েও প্রচুর লিখেছেন। তিনি গণিতের উপর তাঁর যুগান্তকারী বই 'Principia Mathematica' লিখে বিশ্ববিখ্যাত হয়েছিলেন, কিন্তু ১৯৫০ সালে 'Marriage and Morals' গ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রাসেলের লক্ষ্য ছিল সুখী, সুন্দর শান্তিপূর্ণ এক পৃথিবী। তাই মানবজীবনের সাথে জড়িত প্রায় সকল বিষয়েই তাঁর চিন্তা আবর্তিত হয়েছে। শিক্ষা সম্পর্কেও তিনি সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষার বিষয়বস্তু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঠামো, এর নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া, সমাজ গঠনে শিক্ষার ভূমিকা ও প্রভাব ইত্যাদি সম্পর্কে রাসেল এত বিস্তৃত আলোচনা করেছেন যে বর্তমান প্রবন্ধে এত স্বল্প পরিসরে রাসেলের শিক্ষাভাবনার উপর সামগ্রিক আলোকপাত করা সম্ভব নয়। তাই এখানে সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর শিক্ষাচিন্তার কয়েকটি দিক তুলে ধরার প্রয়াস নেব।

শিক্ষার উপর রচিত রাসেলের প্রথম গ্রন্থ 'On EducationÕ (১৯২৬) এত বহুল পঠিত হয়েছিল যে, এক বছরের ব্যবধানে এই বই সাতবার প্রকাশ করতে হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষার উপর বিশেষভাবে রচিত তাঁর অন্য গ্রন্থ MÖš’ 'Education and the Social Order'(১৯৩২) এখন পর্যন্ত অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁর ''Principles of Social Reconstruction'(১৯১৯) গ্রন্থে শিক্ষার উপর রচিত অধ্যায়টিও খুব প্রশংসা পায়। এছাড়া অন্যান্য গ্রন্থেও শিক্ষা সম্বন্ধে তাঁর বিভিন্ন চিন্তার প্রকাশ দেখা যায়। মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মুক্ত আলোচনা, বিজ্ঞানসম্মত মানসিক গঠন, বিজ্ঞান মনস্কতা কিভাবে প্রকৃত শিক্ষাকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা দিতে পারে রাসেল তা ব্যাখ্যা করেন।

রাসেলের দৃষ্টিতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সভ্যতা, যাকে সংজ্ঞায়িত করা যায় আংশিক ব্যক্তিক ও আংশিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে। ব্যক্তির মাঝে সভ্যতা বিকশিত হয় বৌদ্ধিক ও নৈতিক গুণাবলীর সমন্বয়ে। এছাড়া তাকে কিছু সাধারণ জ্ঞান, নিজের পেশা সংক্রান্তজ্ঞান, সাক্ষপ্রমাণ সাপেক্ষে মতামত প্রদানের ক্ষমতা, প্রেম-প্রীতি, দয়া-মায়া, হাসি-আনন্দের অনুভূতি। আর সমাজ জীবনে সভ্যতা দাবী করে আইনের প্রতি সম্মান, ন্যায়পরায়নতা, মানবজাতির কোন একটি অংশের প্রতি স্থায়ী কোন ক্ষতি না করার উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্যের সাথে উপায়কে বুদ্ধিসম্মতভাবে সংগতিপূর্ণ করে তোলা।

সংগঠিত সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় জীবনে শিক্ষার সমস্যা একটি প্রাচীন সংখ্যা। আজকে যে শিশু আগামীকাল সে পরিপূর্ণ নাগরিক হবে তাই তাকে কি শিক্ষা দেয়া হবে, কি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, কি শর্তাবলী থাকবে, বড় হয়ে সে কি দায়িত্ব পালন করবে, কি দায় শোধ করবে, শিশুর শিক্ষা কখন থেকে শুরু হবে এসব প্রশ্নের মূলে আছে ব্যক্তির সঙ্গে সমষ্টির সম্পর্কের প্রশ্ন। ব্যক্তির বিকাশ কি চুড়ান্তভাবে স্বাধীন হবে, না রাষ্ট্র বা সরকার তাকে নিয়ন্ত্রিত করবে এসব প্রশ্ন নিয়ে দুই হাজার বছর আগে প্লেটোও আলোচনা করেছিলেন। রাসেলের মতে, “প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষার উদ্দেশ্য কি হবে? শিক্ষার উদ্দেশ্য কি উত্তম ব্যক্তিকে তৈরী করা না উত্তম নাগরিকের সৃষ্টি।.... সত্তা হিসাবে ব্যক্তি স্বাধীন, কিন্তু নাগরিক হিসাবে সে প্রতিবেশের অধীন।.... কিন্তু আমার বক্তব্য হচ্ছে, ব্যক্তি হিসাবে আমাদের চারিত্রিক যে সত্তা তাকে স্মরণ রাখা আমাদের কর্তব্য। ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতির ভিত্তিতে যদি আমরা নাগরিক হতে পারি, তাহলে কেবল যে আমরা নাগরিক হব তাই নয়, তাহলেই মাত্র আমরা উত্তম নাগরিক হতে পারব। রাসেল অভিমত পোষণ করেন যে শিক্ষার দুটি উদ্দেশ্য; একদিকে মন গঠন করা, অন্যদিকে নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেয়। এথেন্সবাসীরা প্রথমটির প্রতি এবং স্পার্টাবাসীরা দ্বিতীয়টির প্রতি মনোযোগী হয়েছিল। স্পার্টাবাসীরা জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু এথেন্সবাসীরা স্মরণীয় হয়েছিলেন।”

রাসেলের মতে মানুষকে নাগরিক হিসাবে প্রশিক্ষণ দেয়া শিক্ষার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যক্তি হিসাবে ব্যক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বয়ম্ভর, কিন্তু একজন নাগরিক হিসাবে সে তার প্রতিবেশীদের দ্বারা, সমাজের অন্যান্যদের দ্বারা সীমাবদ্ধ। রাসেল বলেন, “একজন নাগরিকের মনোভাব হতে হবে এমন যে সে সচেতনভাবে জানবে যে, তার ইচ্ছাটাই একমাত্র ইচ্ছা নয়। তার সম্প্রদায়ের মধ্যে যত বিরোধপূর্ণ ইচ্ছা আছে তার মধ্যে একটা ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে হবে। একমাত্র রবিনসন ক্রুসো ছাড়া আমরা সকলেই নাগরিক এবং সে কারণে শিক্ষাকে এ সত্য মেনে নিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।”

রাসেল ব্যক্তিকে যেমন সমাজ ও রাষ্ট্রের বাইরে ভাবতে পারেননি, তেমনি আবার সমাজ ও রাষ্ট্র যেখানেই তার সংকীর্ণ রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় বা শ্রেণীগত স্বার্থ দ্বারা ব্যক্তির নিজস্ব সত্তাকে খর্ব করার চেষ্টা করেছে, সেখানেই প্রতিবাদ করেছেন। “সংকীর্ণ দৃষ্টিতে দেখলে নাগরিকের শিক্ষা ব্যক্তির আপন সত্তার বিকাশে যেখানে সবচেয়ে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে, সে হচ্ছে মীমাংসাহীন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বৈজ্ঞানিক দৃষ্টির স্ফুরণ। বিজ্ঞানের পদ্ধতি হচ্ছে প্রশ্নের পদ্ধতি আবিষ্কারের পদ্ধতি। আবিষ্কার মানেই জ্ঞানের এক অবস্থা থেকে অপর অবস্থায় উত্তরণ অর্থাৎ পরিবর্তন। বৈজ্ঞানিক মনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই আবিষ্কারের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বীকার করা। তাকে বিকশিত করা। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ বিজ্ঞানের বিধানে অনড় বিশ্বাস নয়। তার অর্থ নতুনতর বিধানের আবিষ্কারের সম্ভাবনাকে বিশ্বাস করা। কিন্তু নাগরিকের পক্ষে এই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী রাখা সম্ভব নয়। কারণ সে প্রাচীন ঐতিহ্য আর প্রবীণদের শাসনে আবদ্ধ। যা প্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত তাই তার কাছে সত্য এবং অপরিবর্তনীয়। আর যে ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠিত সত্যে প্রশ্ন তোলে সে নাগরিকদের কাছে ভয়ঙ্কর রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। তাই রাসেল যদিও সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় শিক্ষার অনিবার্যতার কথা স্বীকার করেন তবুও বলেন, “কাজেই নাগরিকত্বের শিক্ষার মধ্যে যে মারাত্মক বিপদ নিহিত রয়েছে তাকে আমরা বিস্তৃত হতে পারিনে।” রাসেল মূলত ব্যক্তি বিকাশের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থাকেই কেন্দ্রে রেখে এর সাথে রাষ্ট্রীয় শিক্ষার সমন্বয়ের কথা বলেন।

রাসেল রাষ্ট্রীয় শিক্ষায় দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবাদ শিক্ষার বিরোধী ছিলেন। রাসেলের মতে “স্কুলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সংকীর্ণ দেশ প্রেমের শিক্ষা দেয়া হয় তাতে রাষ্ট্র তথা সরকারের সমস্ত নীতি, বিশেষ করে অপর রাষ্ট্রের সাথে তার গৃহীত নীতিকে সমর্থণ নাগরিকের মজ্জাগত হয়ে দাঁড়ায়। এই সংকীর্ণ দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ পৃথিবীকে পরস্পরবিরোধী মানব গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে ফেলে। কারণ উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব যদি হ্রাস করা না যায় তাহলে সমগ্র সভ্যতার অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। জাতীয়তাবাদ নাগরিককে নিজের রাষ্ট্র সর্বোত্তম ও অপর সব রাষ্ট্র শত্র“ এ মনোভাবে পূর্ণ করে তোলে।.... তাই জাতীয়তাবাদের মধ্যে রয়েছে ঘৃণার বীজ আর মিথ্যার প্রচারণা। উভয় দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবাদের শিক্ষাদান মানুষ হিসাবে ব্যক্তির চারিত্রিক বিকাশের পরিপন্থি।” রাসেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জাতীয়তাবাদের যে হিংস্র এবং অমানবিক ও অযৌক্তিক প্রকাশ দেখেছেন এবং এর ফলে যুদ্ধে যে ধ্বংস প্রত্যক্ষ করেছেন সেখান থেকেই বিশ্বশান্তির জন্য জাতীয়তাবাদী ভাবনা ক্ষতিকর বলে মনে করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই রাসেল আশা প্রকাশ করেছেন, “হয়তো আগামী যুদ্ধের শেষে রাষ্ট্রগুলো এই জাতীয়তাবাদের মারাত্মক পরিণামের কথা উপলব্ধি করবে এবং তখন তারা জাতীয়তাবাদের পতাকার নীচে বিভক্ত হওয়ার চেয়ে সর্বজাতির সম্মিলিত সংগঠনের পতাকাতলে সমবেত হওয়াই মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হিসাবে গণ্য করবে। আজ হয়তো এটা আমার কল্পনা বিলাসমাত্র।” রাসেল তাই শিক্ষাব্যবস্থায় কোন সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য না দিয়ে শিশুকে যাতে আন্তর্জাতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেদিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মের স্থান কেমন হওয়া উচিত এ প্রসঙ্গে রাসেলের আলোচনা যদিও ইংল্যন্ড এবং ইউরোপের সমাজভিত্তিক তবুও তা প্রণিধানযোগ্য। রাসেলের মতে একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান আহরণকারী রাষ্ট্র ধর্মীয় শিক্ষাকে তার সাধারণ শিক্ষার অঙ্গীভূত করতে পারেনা। এর কারণ সম্পর্কে রাসেল যে সব যুক্তি দেন তার সংক্ষিপ্ত রূপ হলো প্রথমত ধর্ম রক্ষণশীল শক্তি। ধর্ম সর্বদাই অতীতকে ধরে রাখতে চায়। নতুনকে গ্রহণে অনীহা দেখায়। দ্বিতীয়ত: ধর্ম তার বিশ্বাসীদের ভবিষ্যৎ বা পরকালের সুখ স্বাচ্ছন্দের কথা বলে, সে বিশ্বাস বিনষ্ট হলে, ব্যক্তি হতাশাগ্রস্থ হয় এবং তার জীবন অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। তৃতীয়ত: যেহেতু ধর্মের জোর হচ্ছে পরকালের উপর তাই অনেক সময়ই সামাজিক অন্যায় অবিচার প্রতিরোধের মনোভাব সৃষ্টির বদলে ব্যক্তিকে পরকালের আরাম আয়েশের আশ্বাসে এগুলো সহ্য করার মানসিকতা সৃষ্টি করে। চতুর্থত: ধর্ম ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী, উদ্যোগী করার বদলে অনেক ক্ষেত্রেই আত্মসমর্পণকারী এবং অতিপ্রাকৃত শক্তির ক্রীড়নকে পরিণত করে। এসব ছাড়াও রাসেলের মতে ধর্ম প্রায় সবক্ষেত্রেই জ্ঞান, বুদ্ধি বা প্রশ্নের প্রশংসা না করে বরং অনুৎসাহিত করে। তাছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের মনকে নতুন চিন্তা, নতুন জিজ্ঞাসা, নতুন আবিষ্কারের প্রতি বিমুখ করে তোলে। রাসেল মনে করেন এমনকি নীতিবোধ গঠনেও রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মের স্থান থাকা আবশ্যক নয়। কারণ ধর্মকে আশ্রয় করে নীতিবোধটিকে তাকলে সেক্ষেত্রে ব্যক্তির আত্মনির্ভরশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। সে ব্যক্তি নির্বিচারে ধর্মীয় কর্তৃত্বে বিশ্বাসী হযে বৌদ্ধিক গুণাবলীর অবমূল্যায়ন করে। রাসেল তাই ধর্মকে নৈতিকতার ছড়মূল থেকে সরিয়ে সেখানে প্রতিস্থাপন করেছেন ভালবাসা ও জ্ঞানকে। মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্ণতার জন্য জ্ঞান, আবেগ, উচ্ছ্বাস, শক্তি এবং সেইসাথে সৃজনী তাড়না ও অন্যের প্রতি মর্যাদাবোধ এগুলো যথাসম্ভব বাড়ানোর ব্যবস্থা শিক্ষার একটা উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। রাসেলের মতে ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিকতার জন্য ধর্মের প্রেমের দিক অপেক্ষা ধর্মান্ধতা ও গোঁড়ামীই বৃদ্ধি পায়। এই অন্ধবিশ্বাস এবং অসহনশীলতা শুধু উত্তেজনা ও উদ্বেগ বৃদ্ধি করে; কোন ন্যায় বা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনা বরং যুদ্ধ ও ধ্বংসই বয়ে আনে। তাই রাসেল মন্তব্য করেন, “আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে ভাবীকালে মানুষ তথাকথিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও আদর্শের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অংশগ্রহণ করতে রাজী হবেনা; বরং আগামী দিনের মানুষ একটি প্রজ্ঞাশীল শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হবে।” সমষ্টির কল্যাণের জন্য আবশ্যক উদারতা ও পক্ষপাতহীনতা। কিন্তু গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলোও এর অভাবের ফলেই ধর্মীয় গোড়ামী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ এবং শ্রদ্ধাশীল নয়। এসব নানা দিক বিশ্লেষনে রাসেল শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মের অন্তর্ভুক্তির বিরোধীতা করেন।

রাসেলের শিক্ষাচিন্তায় স্বাধীনতার ধারণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসেল মনে করেন চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারলেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অনেকটাই সাধিত হবে। রাসেলের মতে চিন্তা ও মতামতের জগতটা যে কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। চিন্তাজগত যতদূর সম্ভব স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তির উপযোগী হওয়া উচিত। শিক্ষা ও মানবজীবনের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো ব্যক্তিগত উদ্যম এবং সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন শিক্ষা প্রদান যা দ্বারা ব্যক্তি মননের স্বাতন্ত্র্য রক্ষিত হয়। শিক্ষাগ্রহণের আকাক্সক্ষা মানুষের একটি সহজাত আকাক্সক্ষা। এই সহজাত প্রবণতার কারণেই আনন্দচিত্তে শিশু শিখতে থাকে। তবে বড়রা উৎসাহ এবং প্রশংসা দিয়ে শিশুদের শিক্ষার কাজটি সহজতর করে দেয়। কিন্তু শিশু যখন একটু বড় হয়, নিজে নিজে নিজস্ব কাজগুলো করতে পারে তখন শিশুদের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিযে শুরু করাটা অনেকক্ষেত্রেই বিপজ্জনক। স্বাধীনতার সাথে পরিহারযোগ্য অবস্থাগুলোকে গুলিয়ে ফেলে তারা গঠনমুলক কিছু করতে অপারগ হতে পারে। রাসেলের মতে, “সুস্থ জীবনবোধের ধারণা ও পরিবেশের সঙ্গে জীবনকে খাপ খাইয়ে নেয়ার মতো করে বেড়ে উঠবার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা এবং কিছু পরিমাণ শাসন শিশুর জন্য অপরিহার্য।” রাসেল স্বীকার করেন যে, শিক্ষাঙ্গনে কিছু পরিমাণ আনুগত্য ও শৃঙ্খলা থাকা অপরিহার্য, কিন্তু আনুগত্যের খাতিরে আনুগত্য বা শৃঙ্খলা প্রদর্শন কখনো কাম্য হতে পারেনা।

শিশুর পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে তাকে শিক্ষিত করে তোলার দ্বায়িত্ব যে শিক্ষকের তার মাঝে থাকা প্রয়োজন শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ। উষ্ণ অনুভূতি দিয়ে শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থীর সীমাবদ্ধতাটা কোথায়। শিক্ষকের কর্তব্য এই নয় যে তিনি ছাত্রকে কোন ছাঁচে ঢেলে তৈরি করবেন। প্রতিটি মানুষ তার নিজের জীবনের রূপকার। ছাত্র স্বাধীনভাবে নিজের জীবন গড়ে তুলবে। শিক্ষক কেবল তার হাতকে সবল করে তুলবেন। ব্যক্তির জীবনের উদ্দেশ্য এমন নয় যে তা রাষ্ট্র বা কোন কর্তৃপক্ষ বা কোন প্রতিষ্ঠান তার উপর চাপিয়ে দিতে পারে। বরং এই উদ্দেশ্য থাকে তার নিজের মাঝে স্বীয় উদ্যমে উদ্ভাসিত। শিক্ষকের এই সত্যটি বুঝতে হবে তবেই তিনি পারবেন স্বাধীনতার নীতিকে খর্ব না করে প্রকৃত শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে। “তবে শিক্ষার্থীর জন্য স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষককে হতে হবে স্বাধীনÑ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে।”

রাসেলের মতে আধুনিক বিশ্বে যে কোন ধরণের বিজয় বা প্রাপ্তির জন্য বিনয়ের চেয়ে বৃদ্ধির ভূমিকা অধিক। বিনাবিচারে কোনকিছু গ্রহণ করে নেয়ার শিক্ষা মানবিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। সামান্যতম অগ্রগতির জন্য মুক্ত স্বাধীন অনুসন্ধিৎসা অপরিহার্য। বিশ্বাস স্থাপনের পরিবর্তে কোন শিক্ষা যদি গঠনমূলক সন্দেহের জন্ম দেয়, তা থেকে যদি অগ্রযাত্রা সাহসিকতার মহিমায় উজ্জ্বল হয় তবেই সে শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা। যদি শিক্ষাপ্রদানের নামে মানুষের প্রকৃত আকাক্সক্ষাগুলোকে লালন না করে কোন ছাঁচে ঢেলে অন্য কোন উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যখন ব্যক্তিকে ব্যবহার করা হয় তখনই দেখা দেয় ব্যক্তিমনের অপূর্ণতা ও অসন্তোষ- এবং এ থেকে সৃষ্টি হয় সামাজিক বিশৃংখলা।

রাসেল শিশুদের ভয় দেখিয়ে শাসন করে কিছু শিক্ষাদানের বিরোধী ছিলেন। রাসেলের মতে, বিভিন্ন নিষ্ঠুর মতবাদের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি খুঁজলে দেখা যায় ‘ভয়’ই হলো এসব মতবাদের প্রধান উৎস। এজন্য রাসেল শিশুদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে ‘ভয়'কে দূরীভূত করতে চেয়েছেন। শিশুদের সমস্ত ভয় এবং ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত করলেই ভবিষ্যতে তাদের কাছে জ্ঞানের রাজ্য খুলে দেয়া সম্ভব। রাসেলের মতে, হাজারো প্রাচীন ভয় মানুষের স্বাধীন ও সুখী হওয়ার পথে বাঁধার সৃষ্টি করে। কিন্তু ভালবাসা ভয়কে জয় করতে পারে। শিশুদের ভালবাসার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে সুখী সুন্দর বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

রাসেল শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় নিয়েই সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেন। রাসেল তার পতœী ডোরা ব্লাকের সঙ্গে যৌথভাবে ১৯২৭ সালে একটি শিশু শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে রাসেলের বেকনহিল স্কুল নামে খ্যাতি লাভ করে। এই স্কুলকেই তিনি তাঁর শিক্ষা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করেন। শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষার উদ্দেশ্য, বিষয় নির্বাচন, শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এসব বিষয় তিনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেন তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে। এসবের বাইরে মূল্যবোধের সামাজিক উৎস সম্বন্ধেও রাসেল সচেতন ছিলেন। শুধুমাত্র নৈতিক বক্তৃতা দিয়ে সমাজের মূল্যবোধ বদলানো যায় না। শুধু শিক্ষার মধ্য দিয়েও নয়। সমাজে প্রচলিত নৈতিক ব্যবস্থাই শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়। প্রচলিত নৈতিক ব্যবহার শ্রেণীচরিত্রের মত শিক্ষারও শ্রেণীচরিত্র শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনে বাঁধার সৃষ্টি করে এবং মিথ্যার প্রচারণাকে পরোক্ষে উৎসাহিত করে। যেমন বিত্তের অসংগতিকে বুদ্ধির অসংগতি হিসাবে ভাবার প্রবণতা কেবল বিত্তবানদের সংস্কার হিসাবে আবদ্ধ থাকেনা, এ সংস্কার শিক্ষা পরিকল্পনার অধিকর্তাদের তথা সামগ্রিকভাবে সমাজের মানসিকতাকেও আক্রমণ করে। বৃহত্তর সমাজের মত শিক্ষায়তনের পরিবেশেও বিত্তবানের ঔদ্ধত্য ও দরিদ্রের দীনতাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্রয় পেতে তাকে। যা মূলত: মনুষ্যত্বের পক্ষে অবমাননাকর তথা শিক্ষার লক্ষ্যের পরিপন্থী। তাই রাসেলের মতে অন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজে শিক্ষার নৈতিক দিকটি যেমন হওয়া উচিত, তেমন কখনই হয়না।

রাসেল যদিও আশাবাদী ছিলেন যে সুস্থ সমাজের অনেক লক্ষণের মধ্যে একটি হলো ঐ সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার আবেগ দ্বেষ বা ঘৃণার আবেগকে স্থানচ্যূত করে সামাজিক পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ঘৃণা ও দ্বন্দ্বকে নিষ্প্র্রয়োজনীয় ও নির্মুল করতে পারার মধ্যেই সমাজের মুক্তি। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে ফেলার চেষ্টাতেই এই লক্ষ্যে উপনীত হওয়া যাবেনা। শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সুচারু আবেগ ও সৃষ্টিময়তার উন্মেষের উপর জোর দিতে হবে বলে রাসেল মনে করেন।

রাসেল জ্ঞান ও ভালবাসাকেই ভবিষ্যৎ সমাজের চালিকাশক্তি হিসাবে ভেবেছেন। ব্যক্তির চেতনাতেই এই জ্ঞান ও ভালবাসা সত্যতা পায়। রাসেলের শিক্ষাচিন্তার মূলেও আছে ব্যক্তি। রাসেলের শিক্ষাদর্শনে ব্যক্তির অনন্যতা ও তার আবেগগত প্রয়োজনের কথা মনে রেখে ‘শ্রদ্ধাবোধ’কে শিক্ষাপদ্ধতির ভিত্তি বলে নির্দেশ করা হয়েছে। রাসেলের ভাষায় “সমষ্টিতে নয় ব্যষ্টিতেই চুড়ান্ত মূল্যমান আরোপ করতে হবে।”

রাসেল ছিলেন মানবতাবাদী দার্শনিক। মানব কল্যাণের লক্ষ্যেই তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসে মনোযোগী হন। যদিও রাসেলের শিক্ষাচিন্তাকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাতত্ত্ব বলা যায় না। শিক্ষায় পরিপূর্ণ স্বাধীনতাও অনেক ক্ষেত্রে বিরূপ ফল বয়ে আনে যার জন্য রাসেল নিজেও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। আবার শিক্ষায় ধর্মের ভূমিকা ন-ঞর্থক বলে রাসেল মন্তব্য করলেও ধর্মের কিছুটা সদর্থক দিকের কথা অনেক মনীষী যেমন ডেল কার্নেগি, মনোবিজ্ঞানী ডা: এ. এ. ব্রিল প্রমুখ স্বীকার করেন। রাসেল নিজেও ধর্মের প্রেমের দিককে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। এসব নানা সমালোচনা করা গেলেও রাসেলের শিক্ষাচিন্তাকে মোটেও খাটো করে দেখার উপায় নেই। আধুনিক সুখী ও সমৃদ্ধশালী সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে রাসেলের শিক্ষাচিন্তা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণে দিক-নির্দেশনা দিতে পারে। আজ যে মানবতার অপমান, মূল্যবোধের অবক্ষয় সমগ্র বিশ্বকে গ্রাসকরতে চলেছে, তা থেকে মুক্তির পথ শুধুমাত্র বিজ্ঞানের আবিষ্কার দেখাতে পারবেনা। তা পারে শিক্ষা - যে শিক্ষা মানব প্রেমে উদ্বুদ্ধ প্রতিটি ব্যক্তির মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে অনুপ্রাণিত করবে। অতীতের নিস্ক্রয়তাকে পরিহার করে সৃজনশীল ভবিষ্যৎ গড়ার আদর্শে শিক্ষা হবে যুগধর্মী, প্রগতিশীল - যা হয়তো রাসেলের কল্পনার বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে। সবশেষে বলা যায় রাসেল থেকে আমাদের শিক্ষা সমস্যার সমাধান পাব তা নয়; তবে আমাদের শিক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার উপায় সন্ধানে রাসেলের শিক্ষা চিন্তা আমাদের সহায়তা করবে, দিক নির্দেশনা দিতে পারবে। যার মূল্য আমাদের বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে অপরিসীম।

গ্রন্থপঞ্জি:
  1. Russell B. - Education and the Social Order
  2. " - On Education
  3. " - The Scientific Outlook
  4. " - Authority and the Individual
  5. " - Sceptical Essays
  6. বার্ট্রান্ড রাসেল - সম্পাদক মফিজউদ্দিন আহমেদ, নতুন সংস্করণ সম্পাদক: খানম মমতাজ আহমেদ, মনন সমিতি, দর্শন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  7. দর্শন ও প্রগতি - ১৪ শ বর্ষ ১ম ও ২য় সংখ্যা জুন-ডিসেম্বর ১৯৯৭
  8. দর্শন - বাংলাদেশ দর্শন সমিতির পত্রিকা ১৯৯৬

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, আব্দুলপুর সরকারি কলেজ, আব্দুলপুর, নাটোর।
Read More ... »
 
উপরে ফিরে আসুন